মোঃ ফরিদ বাবুল
রমজান এলে বাজারে এক অস্থির অবস্থা সৃষ্টি হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম নেই। চাল, ডাল, আটা, তেল, সবজি, মাছ, গোশত ও রমজানে ব্যবহৃত অন্যান্য দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। বাজারের মূল্যবৃদ্ধির আগুনে পোড়া মানুষের অবস্থা শোচনীয়। বাজারের দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টায় বেশির ভাগ মানুষের সঞ্চয় এখন তলানিতে। লাগামহীন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও অনিয়ন্ত্রিত বাজারের ফলে অর্থ সংকটে চরম দুঃখ দুর্দশায় আছেন কক্সবাজার জেলার নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। আয়-ব্যয়ে সামঞ্জস্যতা না থাকায় সংসারে অভাব অনটন যেন কাটছেই না। চাল আনতে ডাল ফুরায়, নুন আনতে পান্তা ফুরায়— অনেকটা এই অবস্থায় কাটছে জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থের অভাবে এই রমজান মাসে অনেক নিম্নআয়ের মানুষ ঠিক মতো সেহরি-ইফতারও করতে পারছেন না।
রামু উপজেলার চেইন্দা এলাকার রহমত উল্লাহ বলেন, রমজানে কাজ নেই, ঘরে টাকাও জমা নেই। এই অবস্থায় ৫ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্তত চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ আহার উপযোগী জিনিসপত্রের দাম কমানো উচিত। ক্ষেতের অল্প কিছু শাক সবজি না থাকলে প্রতিদিন উপোস রোজা রাখতে হতো।
কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খতিজা খাতুন বলেন, জিনিস পত্রের এই উত্তাপের মধ্যে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা দায় হয়ে গেছে। আমার দুই মেয়ে নিয়ে আর্থিক সংকটে কাটছে দিন। খাবারের অভাবে ঠিক মতো রোজা রাখতেও কষ্ট হচ্ছে। এই রমজান মাসে দুটো ভাল- মন্দ খাবার খেতেও টাকার দরকার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মহেশখালীর মিনু আরা বেগম জানান, রমজানে কাজকর্ম নেই। ছেলের আয় রোজগারও বন্ধ। এদিকে জিনিসের দামও আকাশচুম্বী। চাল কিনলে ডাল কেনার টাকা ফুরিয়ে যায়, তরকারি কিনতে গেলে মাছ কেনার সামর্থ থাকে না। এই অবস্থায় সামনে জীবন কিভাবে কাটবে এই নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। টাকার অভাবে এই রমজানে একটু ভাল খাবার দিয়ে ইফতার, সেহরি করতে পারছি না।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ে সামঞ্জস্যতা না থাকায় চাপা কষ্টে দিনাতিপাত করছেন নিম্ন-মধ্যবিত্ত বহু মানুষ। এমনকি এই রোজা রমজান মাসেও সমাজের অনেক মানুষ মাছ -মাংসের দেখা পায় না। প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকী দিয়ে দাম কমানো উচিত।
Leave a Reply